প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬: ঢাকার ইতিহাস মানেই উৎসব, ঐতিহ্য আর নাগরিক প্রাণের স্পন্দন। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে মোগল আমলের রেশ থাকা ঢাকা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের আধুনিক ঢাকা—এই দীর্ঘ ১২৬ বছরের প্রতিটি বাঁকে পাল্টেছে উৎসবের ধরণ, কিন্তু অমলিন থেকেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবর প্রাঙ্গণে নাগরিক উদ্যোগে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ঈদ উৎসবের প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে ঢাকার সেই প্রাচীন ঐতিহ্যকেই আবারও ফিরিয়ে আনার এক অনন্য প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। যেখানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সুরের মুর্ছনা ছড়াবেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ঢাকার ঈদ ছিল মূলত চকবাজার ও হোসেনি দালান কেন্দ্রিক। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও নবাব সলিমুল্লাহর সময়কালীন ঢাকায় ঈদ মিছিল ও কাওয়ালি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পর বাঙালির রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা যখন দানা বাঁধছিল, তখন ঈদ উৎসবই ছিল হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অন্যতম মিলনমেলা। ১৯৪৭-এর দেশভাগ ঢাকাকে এক নতুন প্রশাসনিক পরিচয় দিলেও এখানকার উৎসব সংস্কৃতি ছিল আদি ও অকৃত্রিম।
পাকিস্তান আমলে বাঙালির প্রতিটি উৎসবই হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ভাষা। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর বাংলা নববর্ষ ও ঈদ উদযাপনে বাঙালির নিজস্ব সত্তার প্রতিফলন ঘটতে থাকে। ১৯৬৬ সালের ৬ দফার পর বাঙালির রাজনৈতিক মুক্তির আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ঈদ ছিল অধিকার আদায়ের শপথ নেওয়ার দিন। ১৯৭১ সালের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭২-এর স্বাধীন বাংলাদেশে ঈদ উৎসব পায় এক পূর্ণাঙ্গ নাগরিক রূপ, যেখানে সাম্য ও মানবিকতাই ছিল মূল কথা।
গত ১৫-২০ বছর ঢাকার অনেক নাগরিক ঐতিহ্যই রাজনৈতিক বলয়ের কারণে ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের আজকের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৪-২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে এসে ঢাকা আবার তার পুরনো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। উৎসব আয়োজক কমিটির মতে, ঢাকার প্রাচীন নাগরিক ঐতিহ্য ও উৎসব সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। এই ঈদ উৎসবে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুড়ি উৎসবের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা মূলত ১৯০০ সালের সেই আদি ঢাকার নাগরিক মিলনমেলারই এক আধুনিক সংস্করণ।
গুগল এনালাইসিস এবং ট্রেন্ডস ডেটা (২০২৬) অনুযায়ী, বর্তমান ঢাকার নাগরিকরা এখন কৃত্রিম ডিজিটাল বিনোদনের চেয়ে শেকড় সন্ধানী ঐতিহ্যের প্রতি বেশি আগ্রহী। এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেবল দেশ পরিচালনায় নয়, বরং সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশেও সমানভাবে সচেষ্ট।
১৯০০ সালের সেই পরাধীন জনপদ থেকে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট ও সমৃদ্ধ ঢাকা—এই রূপান্তরটি সম্ভব হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কারণে। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বক্তব্যের রেশ ধরে বলা যায়, বাংলাদেশে এখন সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত হয়েছে। ঈদের এই তিনদিনব্যাপী আয়োজন কেবল আনন্দের নয়, বরং এটি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার ঈদ ও উৎসবের বিবর্তন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উৎসবগুলো সবসময়ই ছিল নাগরিক মিলনের অন্যতম বড় উপলক্ষ। ২০২৬ সালের এই বিশেষ ঈদ আয়োজন প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ তার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আসিফ মাহমুদদের মতো তরুণ নেতৃত্বের সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ ২০২৬ সালের বাংলাদেশের এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সংকেত।
সূত্র: যুগান্তর আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল লাইব্রেরি, উৎসব আয়োজক কমিটি এবং ২০২৬ সালের গুগল রিয়েল-টাইম পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস রিপোর্ট।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |